মক্কার ক্রেন দুর্ঘটনা ও আমার ভাবনা
লিখেছেন লিখেছেন তরবারী ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৫, ০৩:২২:৪৯ দুপুর
কোরআনে মক্কা কে পবিত্র এবং সুরক্ষিত নগরী ঘোষণা করেছে।আর আমাদের ধারণা এবং জ্ঞান দুইটাই এর উপর নির্ভরশীল এবং বিশ্বাসী।
কোন সন্দেহ নাই মক্কার পবিত্রতা এবং সুরক্ষা নিয়ে,তবে ব্যাখ্যার দিক থেকে এর যে ফাঁক ফোঁকর উলামা রা রেখেছেন তার প্রমাণ হয়তো মক্কার ক্রেন ভেঙ্গে যাওয়া দুর্ঘটনা।
একটা ধারণা আমাদের কেউ কেউ প্রচার করছে যে মক্কাকে সুরক্ষিত ঘোষণা করা হয়েছে এবং তা আল্লাহ্ স্বয়ং কোরআনে ঘোষণা করেছে সেখানে এমন ঘটনা কিভাবে ঘটে?একটা আশ্চর্যবোধক চিহ্ন দিয়ে গেলাম !
আল্লাহ্ কোরআনের ব্যাপারে কোরআনে কি বলেছেন?
কোরআন নাজিল করেছেন আল্লাহ্ আর এর রক্ষণাবেক্ষণ সরাসরি আল্লাহ্ নিজে করবেন এমন ঘোষণা আল্লাহ্ স্বয়ং নিজে দিয়েছেন,কিন্তু পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় কোরআন আগুনে পুড়ে ছাই হয়েছে,পানিতে ভিজে পানির সাথে মিশে গেছে এমনকি শয়তান এর পায়ের তলায় ও আক্রোশের বিষয় হিসেবে ঠাই পেয়েছে(নাউজুবিল্লাহ)।
তার মানে কি রক্ষণাবেক্ষণ নষ্ট হয়েছে?নাহ,রক্ষণাবেক্ষণ বিনষ্ট হয়নি,বরং ঘোষণাটা কোরআন নামক বই না বরং তার শিক্ষা,তার বাণী,তার প্রতিটি আয়াত এর অবিকৃত অবস্থায় থাকার চ্যেলেঞ্জের রক্ষণাবেক্ষণ।সারা পৃথিবীতে দের কোটি কোরআনের হাফেজ আছেন,শুধু তাই নয় একটি মাত্র গ্রন্থ যার একটি যের জবর পর্যন্ত পরিবর্তন কেউ বের করতে পারেনি এই ১৬০০ বছরেও।
হজরত খালিদ (রাঃ) ২৫০ টি যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়ে ২৫০ টি-ই জয়লাভ করেছে আর লোকজনের মুখে কথা উঠতে লাগলো যে খালিদ মানেই বিজয় এর মাধ্যমে শিরিকের কিছু চলে আসতে পারে এই ধারণা থেকে হজরত উমার (রাঃ) উনাকে সরিয়ে হজরত সাদ ইবনে ওয়াক্কাস (রাঃ) কে সেনাপতি করলেন।এটা আসলে ফিতনা থেকে বাঁচার জন্য করা হয়েছিলো।
তেমনি কিছু নবী পূজারী আর মক্কা পূজারীদের নিবারণের জন্য হয়তো আল্লাহ্ এই ছোট্ট নমুনা দেখিয়ে বলেছেন যে এটা নিরাপদ তবে এটাও ধংসশিল এবং একদিন কেয়ামতের সময় এটাও ধ্বংস হবে মানুষ যেন ঈমান ছেড়ে এর উপর নির্ভরশীল না হয়ে পরে।(আমার ব্যাক্তিগত ধারণা)
উপরে আশ্চর্যবোধক একটি চিহ্ন দিয়ে এসেছিলাম?তার একটু আলোচনা আমার কাছে এমন মনে হচ্ছে যেন এক ষড়যন্ত্রের বীজ বোনা হয়েছে মক্কায় গত পরশুদিন।
আমি আর আপনি না বুঝলেও কাফের,মুশরিক,ইহুদি খ্রিস্টানদের পণ্ডিত রা মুসলমানদেরকে ভয় পায় এবং তারা জানে কোরআন যে ঐশী গ্রন্থ এবং সত্য গ্রন্থ।তাই সরাসরি এই বিষয়গুলোর উপর তারা হাঁট দেয় না সহজে।
তাদের এই জ্ঞান আছে যে কোরআন এ মক্কা কে নিরাপদ নগরী ঘোষণা করেছে এবং তারা এও জানে যদি সৌদি কে বিলীন করে দেয়া যায় তবে এই মুসলমান হয়তো আর কোনদিন একত্রিত হওয়ার আর স্বপ্ন দেখবে না।সেই লক্ষ্যে তারা শতশত বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছে।
কিন্তু কোরআনের ঘোষণার কারণে মক্কা ধ্বংসের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তাদের পক্ষে নেয়া সম্ভব হচ্ছে না আর এই ঘোষণাটি আসলে কেমন হতে পারে সেই পরীক্ষার জন্য ওখানকার কর্মরত বিভিন্ন কোম্পানির বিদেশী এজেন্ট রা হয়তো ক্রেন ভঙ্গের মধ্য দিয়ে একটি এসিড টেস্ট করে নিয়েছে।(আমার ব্যাক্তিগত ধারণা)
কেয়ামত যখন সংগঠিত হবে তখন পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে,তার মানে এই যে মক্কা ও ধ্বংস হয়ে যাবে।তবে কি আল্লাহ্ আমাদের সতর্ক করে দিয়েছেন যে কেয়ামত অতি সন্নিকটে?
তিনটি কারণের যে কারণ-ই থাকুক মুসলমানদের উচিত সতর্ক হওয়া যে কোন বিদআত,মিথ্যা এবং ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে এবং সেই সাথে দলাদলি বাদ দিয়ে এক পথে একীভূত হওয়ার মাধ্যমে নিজেদের ঈমানকে শক্ত করে মৃত্যু পরবর্তী জীবনের জন্য প্রস্তুত করা।
আল্লাহ্ আমাদের উপর রহম করুক এবং শহীদ হাজীদের জান্নাতুল ফিরদাউস দান করুক।আমীন।
বিষয়: বিবিধ
১০৩৩ বার পঠিত, ৩ টি মন্তব্য
পাঠকের মন্তব্য:
ঐ দুর্ঘটনা থেকে আল্লাহতায়ালা আমাকে হেফাজত করেছেন, আলহামদুলিল্লাহ
আমার জিহ্বাকে ওটাতে জড়িয়ে বিপদে পড়তে চাইনা
মন্তব্য করতে লগইন করুন