আসুন বিদ’আতী চিনি
লিখেছেন লিখেছেন প্রেসিডেন্ট ০১ জুলাই, ২০১৪, ১১:৪৪:৪৪ সকাল
দীর্ঘদিন অনলাইনে বিদ’আতীদের আনাগোনা পর্যবেক্ষণ করে এদের কিছু বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানলাম। সংক্ষেপে কিছু তুলে ধরছিঃ
১. এরা শুধু বিদ’আতী নয়, বেয়াদব ও বটে! যুক্তি প্রমাণে এরা কখনো পারে না। তখন শুরু করে তুই তোকারী এবং গালাগালি ।
২. এরা সুন্নাত, নফল/মুস্তাহাব ও নিজেদের বিদ’আতী আমল নিয়ে খুব বাড়াবাড়ি করে। ভিন্নমতকে এরা একদম সহ্য করতে পারে না, শ্রদ্ধা তো অনেক দূরের বিষয়। সামান্য মতপার্থক্যের জন্য এরা ভিন্নমত পোষণকারীকে বাতিল, ভ্রান্ত, এমন কি কাফের উপাধি পর্যন্ত দিয়ে ফেলে। অথচ ফরয সম্পর্কে এদের উদাসীনতা লক্ষ্যণীয়।
৩. কুরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ থাকা ফরয। শিরক কুফরী ছাড়া অন্যান্য ত্রুটি বিচ্যূতির জন্য কাউকে বাতিল বলার সুযোগ নেই। উদার মুসলিমরা ঐক্যের ডাক দিলে সেখানেও এসব বিদ’আতীরা ঐক্যপ্রচেষ্টা নস্যাৎ করার জন্য ঝামেলা সৃষ্টি করে। তাদের বিদ’আতী মতের সমর্থনে কূট তর্ক করে।
৪. এরা বিদ’আতকে জায়েয করার জন্য বিদ’আতকে দুই ভাগে ভাগ করে- বিদ’আনে হাসানাহ তথা ভাল বিদ’আত ও মন্দ বিদ’আত। অথচ হাদীসের বাণী- “সকল বিদ’আতই গোমরাহী।”
৫. বিদ’আতী রা কিছু কূটতর্ক করে বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্য। যেমনঃ “রাসূলুল্লাহ(সা) তো গাড়িতে বা বিমানে চড়েন নি। তাহলে এসব যানবাহনে চড়া কি বিদ’আত?”; “মসজিদ পাকা করা, মাইক ব্যবহার এসব ও তো নতুন সংযোজন। তাহলে এসবও কি বিদ’আত?”
এ আহাম্মকদের কে বুঝাবে- যানবাহনে কেউ ইবাদতের নিয়্যতে চড়ে না। এসব হচ্ছে মুবাহ কাজ। এসব ক্ষেত্রে নতুনত্ব, আধুনিকত্ব, প্রযুক্তি বিদ’আত হবে কেন?
মসজিদ পাকা করা, মাইক ব্যবহার করা এসব কোন আনুষ্ঠানিক ইবাদত নয়। বরং ইবাদত সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করার জন্য এসব প্রয়োজন। তাহলে এসব বিদ’আত হবে কেন?
৬. এরা রাসূলুল্লাহ(সা) এর সহীহ হাদীসকে ও অস্বীকার করে/অবজ্ঞা করে যদি তা তাদের বিদ’আতী মতের বিরুদ্ধে যায়। এসব ক্ষেত্রে এরা সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম এর হাদীসকেও অস্বীকার করতে কুন্ঠিত হয় না। বিপরীতে তাদের বিদ’আতী মতের সমর্থনে যয়ীফ, জাল ও বানোয়াট হাদীস পেশ করে এরা।
৭. পবিত্র কুরআন কারীম ও সহীহ হাদীসের রেফারেন্স এর বিপরীতে এরা বিভিন্ন কিতাবের রেফারেন্স দেয়। ফতোয়ার কিতাবের কথা তাদের কাছে কুরআন ও সহীহ হাদীসের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ।
৮. এরা কুরআন ও সহীহ হাদীস পড়তে নিরুৎসাহিত করে। এতে নাকি বিভ্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে! অথচ পবিত্র কুরআনে কারীমে একাধিক বার এরশাদ হয়েছেঃ
وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِن مُّدَّكِرٍ
“আমি উপদেশ গ্রহণ করার জন্য এ কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি। কে আছে শিক্ষা গ্রহণ করবে?” (সূরা কামারঃ ১৭, ২২, ৩২ এবং ৪০ নং আয়াত)।
৯. এরা কুরআন ও সহীহ হাদীসের চেয়েও ফিকহ শাস্ত্রকে বেশি গুরুত্ব দেয়। এমনকি বাপ দাদা, পূর্ব পুরুষদের আমলেরও রেফারেন্স দেয়। ‘বাপ দাদা কি ভুল করছে নাকি?‘
যেখানে মুহাদ্দিসগণের সর্বোচ্চ সতর্কতা, অধ্যবসায়, আন্তরিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও জালিয়াতরা হাদীস জাল করেছে সেক্ষেত্রে ইমামদের বক্তব্য বিকৃত করা যে আরো সহজ, এ সহজ বিষয়টি এরা বুঝতে চায় না।
১০. এরা কুরআন ও সহীহ হাদীসের অনুসারীদের শায়েস্তা করতে ইসলামের শত্রু বাতিল শক্তিকে ও বন্ধু হিসেবে কবুল করতে দ্বিধা করে না।
আল্লাহ তাআলা তাদের হেদায়াত দিন। আমিন।
বিষয়: বিবিধ
১৪১৭ বার পঠিত, ১৩ টি মন্তব্য
পাঠকের মন্তব্য:
https://www.facebook.com/desisele/posts/799276363425829?comment_id=799553770064755&offset=0&total_comments=32¬if_t=feed_comment_reply
ইহ্দিনাস সিরাত্বাল মুস্তাকীম...
মন্তব্য করতে লগইন করুন